দেশে সারের কোনো সংকট নেই এবং ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও পটাশসহ সব ধরনের সারের পর্যাপ্ত মজুত সরকারের হাতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বর্তমানে চলমান কোনো সারের ডিলারশিপ বাতিল করা হচ্ছে না উল্লেখ করে কৃষকদের আগাম সার কিনে মজুত না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে কিছুটা সাময়িক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে কৃষি মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরই মধ্যে বিদ্যমান ডিলারদের ডিলারশিপ বহাল রেখে স্পষ্ট পরিপত্র জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা সার উত্তোলন ও বিক্রির কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৮-০৯ সালের পর থেকে সার ডিলারদের বিক্রয় কমিশন বাড়েনি। বর্তমানে পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় ডিলারদের কমিশন বাড়ানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী অর্থ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের ১৩৩টি সাধারণ গুদাম এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের ৩৩টি বাফার গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। আসন্ন আমন মৌসুমের পর আলু ও রবি শস্যের জন্য কিছু কৃষক আগাম টিএসপি ও ডিএপি সার কিনতে যাওয়ায় এবং দু-একজন ডিলার সময়মতো সার উত্তোলন বা বিতরণ না করায় সাময়িক কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছিল। যেসব ডিলার সার মজুত করে রেখেছিলেন বা বিতরণে বিলম্ব করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার সরবরাহ করা হবে। তাই কৃষকদের আগাম সার কিনে মজুত করার প্রয়োজন নেই।
এর আগে সকালে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মধ্যে হুইলচেয়ার, ছাত্রীদের মধ্যে বাইসাইকেল এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফলজ, ঔষধি ও বনজ বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়। এছাড়া ‘নতুন কুঁড়ি’ বিজয়ী শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ, ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাতে ছাত্রীদের জন্য ১ হাজার প্যাকেট স্যানিটারি ন্যাপকিন এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে। উন্নয়নের সুফল যেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা সমানভাবে পায়, সে লক্ষ্যেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফার্স্ট এইড বক্স, খেলাধুলার সামগ্রী ও সাংস্কৃতিক বাদ্যযন্ত্র সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।