বগুড়ায় ইঁদুরের ফাঁদ ও কবুতরের বিষ্ঠার পাশেই তৈরী হচ্ছিল জনপ্রিয় ফুচকা-চটপটি | Daily Chandni Bazar বগুড়ায় ইঁদুরের ফাঁদ ও কবুতরের বিষ্ঠার পাশেই তৈরী হচ্ছিল জনপ্রিয় ফুচকা-চটপটি | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৫৭
বগুড়ায় ইঁদুরের ফাঁদ ও কবুতরের বিষ্ঠার পাশেই তৈরী হচ্ছিল জনপ্রিয় ফুচকা-চটপটি
নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়ায় ইঁদুরের ফাঁদ ও কবুতরের বিষ্ঠার পাশেই তৈরী হচ্ছিল জনপ্রিয় ফুচকা-চটপটি

চকচকে আউটলেটের আড়ালে চলছিল জনপ্রিয় ‘ভাইবোন’ ফুচকা-চটপটির কারখানা। তবে কারখানার ভেতরের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। খাবার তৈরির টেবিলের পাশেই ছিল ইঁদুর ধরার ফাঁদ। মাথার ওপর ঝুলছিল কবুতরের খাঁচা। খাঁচা থেকে কবুতরের বিষ্ঠা ও ময়লা পড়ছিল প্রস্তুত করা খাবারের ওপর। এ ছাড়া পচা কাঁচামাল ও নন-ফুড গ্রেড প্লাস্টিকের পাত্রে গরম খাবার সংরক্ষণেরও প্রমাণ পেয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুতের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানাটির সব কার্যক্রম ১২ দিনের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া শহরের মালতিনগর এলাকায় ‘ভাইবোন’ ফুচকা ও চটপটি তৈরির কারখানায় যৌথ অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

অভিযান পরিচালনা করেন বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজালাল।

অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, শহরে ‘ভাইবোন’ ফুচকার আকর্ষণীয় আউটলেট থাকলেও এর মূল কারখানার পরিবেশ ছিল চরম অস্বাস্থ্যকর। সেখানে খাবারের পাশে ইঁদুর ধরার ফাঁদ এবং খাবার তৈরির স্থানের ওপর কবুতরের খাঁচা পাওয়া যায়। খাঁচা থেকে কবুতরের বিষ্ঠা ও ময়লা প্রস্তুত করা খাবারের ওপর পড়ছিল।

এ ছাড়া ফুটন্ত গরম টক নন-ফুড গ্রেড প্লাস্টিকের পাত্রে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। কয়েক দিন আগে সেদ্ধ করা পচা ডিমও পাওয়া যায়। চটপটি ও ফুচকা তৈরিতে ব্যবহৃত গাজর ও শসার বড় একটি অংশ ছিল পচা ও মানহীন।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজালাল বলেন, বাইরের চাকচিক্যের আড়ালে কারখানাটির ভেতরের পরিবেশ ছিল স্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। ইঁদুরের উপদ্রব, কবুতরের বিষ্ঠা এবং পচা কাঁচামাল দিয়ে খাবার তৈরির অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরও বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভুল স্বীকার করে পরিবেশ উন্নত করার জন্য ১২ দিনের সময় চেয়েছে। এই সময় কারখানাটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পরবর্তীতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করে পরিবেশ সন্তোষজনক মনে করলে পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হবে।

বগুড়া জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, নিয়মিত ভেজালবিরোধী মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নন-ফুড গ্রেড পাত্রে গরম খাবার রাখা হচ্ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। পাশাপাশি কারখানাটির সার্বিক পরিবেশও ছিল অস্বাস্থ্যকর। জনস্বার্থে এ ধরনের যৌথ মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।