সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে-স্কেল অনুমোদন, সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার | Daily Chandni Bazar সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে-স্কেল অনুমোদন, সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:২৯
সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে-স্কেল অনুমোদন, সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে-স্কেল অনুমোদন, সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। তবে এর সুবিধা ধাপে ধাপে দেওয়া হবে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে ‘বেতন ও চাকরি কমিশন, ২০২৬’ এবং এ-সংক্রান্ত সচিব কমিটির সুপারিশের আলোকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো ও ভাতাদি নির্ধারণের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। পরে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। প্রজ্ঞাপন জারি করতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ এ সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। গ্রেডভেদে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোয় প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। অন্যদিকে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ করে বাড়ানো হয়েছে। ১২তম গ্রেড থেকে নিচের গ্রেডগুলোতে বৃদ্ধির হার ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে।

১ম গ্রেডে মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, ২য় গ্রেডে ৬৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, ৩য় গ্রেডে ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং ৪র্থ গ্রেডে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

৫ম গ্রেডে ৪৩ হাজার থেকে ৮৬ হাজার টাকা, ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৭১ হাজার টাকা, ৭ম গ্রেডে ২৯ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা এবং ৮ম গ্রেডে ২৩ হাজার থেকে ৪৬ হাজার টাকা হয়েছে।

৯ম গ্রেডে ২২ হাজার থেকে ৪৪ হাজার টাকা, ১০ম গ্রেডে ১৬ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা এবং ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

এরপর ১২তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা, ১৩তম গ্রেডে ১১ হাজার থেকে ২৪ হাজার টাকা এবং ১৪তম গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ থেকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে।

১৫তম গ্রেডে ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২২ হাজার ৮০০ টাকা, ১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০ টাকা, ১৭তম গ্রেডে ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৪০০ টাকা, ১৮তম গ্রেডে ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার টাকা এবং ১৯তম গ্রেডে ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে।

সবশেষে ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ গ্রেডেই প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ।

নতুন বেতন কাঠামোয় প্রথমবারের মতো ‘প্রতিবন্ধী সন্তান’ ভাতা চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। এ ভাতা হিসেবে মাসে ৩ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সোমবার সকালে নতুন পে-স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান এবং সরকারের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থসচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো চালু হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর মূল বেতন ৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হলেও নতুন কোনো জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোর ভিত্তিতেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা নির্ধারিত হয়ে আসছে।

প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের আওতায় প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছেন।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এখন প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রয়োজনীয় আইনি যাচাই ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।