শজিমেকে ৪০ ঘণ্টার কর্মবিরতি প্রত্যাহার, ছাত্রদলের ৫ নেতাকর্মী বহিষ্কার | Daily Chandni Bazar শজিমেকে ৪০ ঘণ্টার কর্মবিরতি প্রত্যাহার, ছাত্রদলের ৫ নেতাকর্মী বহিষ্কার | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:২৮
শজিমেকে ৪০ ঘণ্টার কর্মবিরতি প্রত্যাহার, ছাত্রদলের ৫ নেতাকর্মী বহিষ্কার
নিজস্ব প্রতিবেদক

শজিমেকে ৪০ ঘণ্টার কর্মবিরতি প্রত্যাহার, ছাত্রদলের ৫ নেতাকর্মী বহিষ্কার

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর টানা ৪০ ঘণ্টা ধরে চলা কর্মবিরতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শজিমেক হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বিএনপি ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক রিতুল মণ্ডল স্নিগ্ধ।

এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে মেডিসিন ওয়ার্ডে আব্দুল মালেক (৫৫) নামের এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর রোগীর স্বজনেরা বার্মিজ চাকু ও রড নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে অন্তত ২১ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হন। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রীও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়। পুলিশ এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও নিরাপত্তার দাবিতে বুধবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে অবস্থান নেন তারা। এতে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী ভোগান্তিতে পড়েন। তবে জরুরি বিভাগ চালু ছিল।

পরিস্থিতি নিরসনে বৃহস্পতিবার দুপুরে শজিমেক হাসপাতালের মিলনায়তনে জরুরি বৈঠকে বসেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ, হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ, রাজশাহী ও বগুড়া জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা এবং বিএমএ ও চিকিৎসকদের প্রতিনিধিরা।

বৈঠক চলাকালে বগুড়া শহর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নাফিউল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. প্রান্ত ইসলাম, সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শিহাবকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈঠক শেষে হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ বলেন, ‘অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক অভিভাবকসুলভ নেতাদের উপস্থিতিতে একটি সফল বৈঠক হয়েছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির মধ্যে বহিরাগত হামলাকারীদের দলীয় শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। হাসপাতালে আর্মড আনসার ও সার্বক্ষণিক পুলিশ ফাঁড়ির ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এসব আশ্বাসের ভিত্তিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা তাদের কর্মবিরতি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছেন।