প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বাড়াতে চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)-এর সহযোগিতায় পাহাড়তলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতন করা। ২০২২ সাল থেকে ইউনিলিভার বাংলাদেশ, চসিক ও ইপসা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করছে।
আয়োজকেরা জানান, এ উদ্যোগের আওতায় চসিকের ১১১টি স্কুল ও মাদ্রাসায় তিন রঙের বর্জ্য পৃথকীকরণ বিন স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বর্জ্যের ধরন অনুযায়ী তা পৃথক করার বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা পাচ্ছে। এ পর্যন্ত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর কাছে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। যাতে তারা পরিবার, বন্ধু ও আশপাশের মানুষের মধ্যে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে পারেন।
পাহাড়তলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুহুল কুদ্দুস খান, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের ফ্যাক্টরি ডিরেক্টর এস এম তারেক সাইফুল্লাহ এবং ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় রুহুল কুদ্দুস খান প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি নির্ধারিত স্থানে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, বর্জ্য পৃথক করা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।
আয়োজকেরা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং এ খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষের সক্ষমতা ও নিরাপত্তা উন্নয়নেও কাজ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে পরিচালিত এ উদ্যোগের আওতায় এ পর্যন্ত ৩৫ হাজার টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং মৌলিক ব্যবসায়িক দক্ষতা বিষয়ে ৩ হাজার বর্জ্যকর্মী ও ২২০ জন ভাঙারি ব্যবসায়ীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২ হাজার বর্জ্যকর্মীকে নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং ১ হাজার ৮২৭ জনকে গ্রুপ বিমার আওতায় আনা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ২৮ হাজার পরিবারের কাছেও বর্জ্য পৃথকীকরণ ও দায়িত্বশীল প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনার বার্তা পৌঁছানো হয়েছে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা জানান, পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী প্রজন্মকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল করে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।