প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ফ্ল্যাটে ধরা এসআই, পরে স্বামীর মামলায় গ্রেপ্তার | Daily Chandni Bazar প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ফ্ল্যাটে ধরা এসআই, পরে স্বামীর মামলায় গ্রেপ্তার | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:৩২
প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ফ্ল্যাটে ধরা এসআই, পরে স্বামীর মামলায় গ্রেপ্তার
চাঁদনী ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্টঃ

প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ফ্ল্যাটে ধরা এসআই, পরে স্বামীর মামলায় গ্রেপ্তার

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্নার সঙ্গে প্রবাসীর স্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না (৩৮) নামে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই মামলায় ওই নারীও গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর আগে স্থানীয়রা একটি ফ্ল্যাট থেকে এএসআই নুরুন্নবী মুন্না ও ওই নারীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে আকবরশাহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী মো. জহির শাহের ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের এসআই ও প্রবাসীর স্ত্রী ফ্লাট থেকে আটক, স্বামীর মামলায় গ্রেফতার দুইজনই

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) নগরের আকবরশাহ থানাধীন বিশ্ব কলোনি আই-ব্লকের ৮০ নম্বর প্লটের দ্বিতীয় তলায় জহির শাহের মালিকানাধীন একটি ফ্ল্যাট থেকে এএসআই মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না ও কাজী পারভীন আক্তারকে স্থানীয়রা আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, মো. জহির শাহ ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ সৌদি আরবে যান। এরপর তাঁর স্ত্রী পারভীন আক্তার ও সন্তানদের দেখাশোনা করতেন তাঁর ছোট ভাই নাদিম। নুরুন্নবী মুন্না আকবরশাহ থানায় কর্মরত থাকার সময় পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে ২০২১ সালের ২০ জুন থেকে জহির শাহের বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। পরে তাদের মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নুরুন্নবী মুন্না বিশ্ব কলোনির ওই ফ্ল্যাটে যান। সেখানে পারভীন আক্তারের সঙ্গে রাতযাপন ও শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মামলার এজাহারে নুরুন্নবী মুন্না ও পারভীন আক্তারের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে ওই ফ্ল্যাট থেকে জহির শাহের বিদেশ থেকে পাঠানো ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১৫ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। মামলায় স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ২৬ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রবাসী জহির শাহের ভাই বাদী হয়ে আকবরশাহ থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৪৯৪, ৪৯৭, ৩২৩, ৩৮০, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

আকবরশাহ থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে স্থানীয়রা এএসআই মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্নাকে আটক করে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় প্রবাসী জহিরের ভাই বাদী হয়ে থানায় ব্যভিচার, মারধর, চুরি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।’