পিরোজপুরের নাজিরপুরে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী তিন চাচার বিরুদ্ধে। চিকিৎসা পরীক্ষায় ওই নারী প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন—নাজিরপুর উপজেলার একই গ্রামের মৃত গনি মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন (৬০), মো. ইব্রাহিমের ছেলে রাকিব (২৮) ও আউয়াল হোসেনের ছেলে মো. আল-আমিন (৪০)। তারা সম্পর্কে ভুক্তভোগী নারীর প্রতিবেশী চাচা।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর ওই নারীর শারীরিক পরিবর্তন পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। সন্দেহ হলে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক পরীক্ষা করানো হয়। পরে তাকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার লিমা আক্তার ও গাইনি কনসালট্যান্ট প্রীতিশ বিশ্বাস জানান, তলপেটে ব্যথা নিয়ে ওই নারী হাসপাতালে এলে প্রাথমিক পরীক্ষায় তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধারণা করা হয়। পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রায় পাঁচ মাসের গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুযোগে হাঁস-মুরগির পরিচর্যার কথা বলে তাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন শাহাদাত। অন্য একদিন রাকিব তাকে একটি মুরগির খামারে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া আল-আমিনও তাকে একইভাবে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, “মেয়েটি সহজ-সরল ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ভালো-মন্দ ঠিকমতো বুঝতে পারে না। শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরীক্ষা করালে অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি ধরা পড়ে। যাদের সে চাচা বলে জানত, তারাই এমন সর্বনাশ করেছে। আমরা আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহাদাত, রাকিব ও আল-আমিনের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানান, সাংবাদিকদের উপস্থিতির বিষয়টি টের পেয়ে তারা আত্মগোপনে চলে যান।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পিরোজপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।