কারাবন্দি হওয়ার প্রায় ১৬ মাস পর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মাশরাফি হিরো।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টায় বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জ জাহানাবাদ গ্রামে তাঁর মা হাফিজা বেগমের (৬২) জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
মায়ের মৃত্যুর পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সিরাজগঞ্জ কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পান মাশরাফি হিরো। পরে পুলিশের পাহারায় তিনি গ্রামের বাড়িতে গিয়ে জানাজায় অংশ নেন।
জানাজার আগে মাশরাফি হিরো বলেন, “আমি এখন পর্যন্ত জানি না আমার মা কখন মারা গেছে। আমি হয়তো তাকে দেখতে পারলাম, কিন্তু সে তো আমাকে দেখতে পারল না। সন্তান মাকে ভালোবাসুক আর না ভালোবাসুক, মা কিন্তু সন্তানকে ঠিকই ভালোবাসে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আমার দায়িত্ব হয়তো সঠিকভাবে পালন করতে পারিনি। এজন্য আমি আমার মায়ের কাছে ক্ষমাও চাইতে পারলাম না। আমার মা অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ওষুধ আর হাসপাতাল করতে করতে তাঁর জীবনটা শেষ হয়ে গেছে। খুব কষ্টের জীবন তিনি পার করেছেন।”
মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমার মায়ের কথাবার্তায় আপনারা যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে দয়া করে নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন। আর আমার মায়ের কাছে যদি কেউ কোনো আর্থিক পাওনা থেকে থাকেন, তবে আমাদের জানাবেন। আমরা তা পরিশোধ করার চেষ্টা করব।”
জানাজা শেষে পুলিশের পাহারায় মাশরাফি হিরোকে পুনরায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বগুড়া জেলা কারাগারের সুপার আসাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।