প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:১৪
ঢাকায় চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রাশিয়া
বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক বিনিময় উদযাপন
ষ্টাফ রিপোর্টার
ঢাকায় রাশিয়ান হাউসের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল “রাশিয়া-বাংলাদেশ: দুই দেশ, এক পর্দা” শীর্ষক একটি বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজনে দুই দেশের সংস্কৃতি, দৃষ্টিভঙ্গি ও চলচ্চিত্রে গল্প বলার ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে ডিআইএমএফএফের জন্য নির্বাচিত মোট ছয়টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়, যার মধ্যে ছিল রাশিয়ার তিনটি এবং বাংলাদেশের তিনটি চলচ্চিত্র। রাশিয়ার চলচ্চিত্রগুলো হল, দ্য শেল, রাস্পবেরি, ওয়ান মিনিট এবং বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলো যথাক্রমে সাউন্ড অব সাইলেন্স, গুডবাই এবং
হুরুমতুরুম। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শকেরা দুই দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীল কাজ উপভোগ করার পাশাপাশি চলচ্চিত্র কীভাবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা, মানবিক অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে, তা অনুধাবনের সুযোগ পান।
চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে ঢাকাস্থ রুশ হাউসের পরিচালক মিসেস আলেকজান্দ্রা এ. খ্লেভনয় রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি তরুণদের সৃজনশীলতা বিকাশ, নতুন ধারণা অন্বেষণ এবং সাংস্কৃতিক ও শৈল্পিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নিরন্তর জ্ঞান অর্জনের আহ্বান জানান।
ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন এবং মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সুমন রহমান অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান। তিনি মানুষকে সংযুক্ত করা, বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় এবং সংস্কৃতির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া গভীর করার ক্ষেত্রে চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন।
ডিআইএমএফএফের প্রশিক্ষক মীর ওয়াদুদ ইসলাম চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর তাৎপর্য এবং গল্প বলার মাধ্যম হিসেবে চলচ্চিত্র নির্মাণের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন ডিআইএমএফএফের উৎসব পরিচালক সোহান শেখ। এরপর ডিআইএমএফএফ ২০২৭-এর উপদেষ্টা সায়েদা সাদিয়া মেহজাবিন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
আয়োজক সংশ্লিষ্টরা জানান, “রাশিয়া–বাংলাদেশ: দুই দেশ, এক পর্দা” শীর্ষক এই চলচ্চিত্র প্রদর্শনী সাংস্কৃতিক বিনিময়, সৃজনশীল প্রকাশ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যম হিসেবে চলচ্চিত্রের শক্তিকে তুলে ধরে। রাশিয়া ও বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলোকে একই মঞ্চে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি দুই দেশের শিল্পীসত্তা ও সৃজনশীল কাজকে উপলব্ধি করার এবং চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার একটি অভিন্ন ক্ষেত্র তৈরি করে।