যুব উন্নয়নের প্রশ্ন ফাঁস: ৭ আসামির দুই দিনের রিমান্ড | Daily Chandni Bazar যুব উন্নয়নের প্রশ্ন ফাঁস: ৭ আসামির দুই দিনের রিমান্ড | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:২১
যুব উন্নয়নের প্রশ্ন ফাঁস: ৭ আসামির দুই দিনের রিমান্ড
চাঁদনী ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্টঃ

যুব উন্নয়নের প্রশ্ন ফাঁস: ৭ আসামির দুই দিনের রিমান্ড

 যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় গ্রেপ্তার সাত আসামির প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রোববার ২৫ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন মো. মফিজুল ইসলাম, মো. রুবেল ইসলাম, মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন, আসাদুল ইসলাম, এস এম এমদাদুল রহমান, মো. জাহাঙ্গীর আলম ও নূর মোহাম্মদ। তাঁদের বয়স যথাক্রমে ২৭, ৩৩, ৩২, ৩১, ৩৫, ৩৮ ও ৩০ বছর।

আসামিদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অফিস সহায়ক, জাহাঙ্গীর আলম ও এস এম এমদাদুল রহমান কম্পিউটার অপারেটর, আসাদুল ইসলাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক এবং রুবেল ইসলাম পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর। মফিজুল ও হাসিনুরকে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল সিআইডি

শুনানির সময় সাত আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মোহাইমিনুল ইসলাম।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাঁরা চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও ব্যাংকের চেক নিয়ে পরীক্ষার আগে প্রশ্ন সরবরাহ এবং উত্তর মুখস্থ করিয়ে দেওয়ার চুক্তি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে আরও বলা হয়, চক্রটির সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আসামিদের কাছ থেকে চাকরিপ্রার্থীদের প্রবেশপত্র, ব্যাংকের চেক এবং প্রশ্নপত্রের লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

আসামিপক্ষের আপত্তি, তদন্ত কর্মকর্তার দাবি

শুনানিতে আসামি এস এম এমদাদুল রহমানের পক্ষে আইনজীবী খোরশেদ আলম বলেন, তাঁর মক্কেল এজাহারভুক্ত আসামি নন এবং তাঁর কাছ থেকে কোনো আলামত উদ্ধারের কথা মামলায় উল্লেখ নেই। তাঁকে হয়রানি করতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ সময় বিচারক আইনজীবীকে মামলার মূল বিষয় নিয়ে বক্তব্য দিতে বলেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চান, ওই আসামির কাছ থেকে কোনো আলামত পাওয়া গেছে কি না। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, বেশ কিছু আলামত পাওয়া গেছে এবং তিনি চক্রটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

অন্য আসামি আসাদুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী আলমগীর হোসেন জামিনের আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় তাঁর মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই।

তবে আদালতে দাখিল করা নথি দেখে বিচারক আসাদুলের কাছে জানতে চান, তাঁর কাছে এতগুলো চেক, স্ট্যাম্প ও চাকরিপ্রার্থীদের প্রবেশপত্র কেন পাওয়া গেছে। জবাবে আসাদুল বলেন, তাঁর একটি ছোট ব্যবসা রয়েছে, যা তাঁর স্ত্রীর নামে পরিচালিত হয়। কিছু নথি তাঁর আত্মীয়ের পরীক্ষার্থী হওয়ার কারণে ফোনে ছিল বলেও তিনি জানান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাওসার আহম্মেদ রিমান্ডের আবেদনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁরা আরও ১১টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরিকল্পনা করেছিলেন বলেও রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, সাত আসামি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁদের কার্যক্রম বিস্তৃত। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পরীক্ষা শুরুর আগে ফেসবুকে ছড়ায় প্রশ্ন

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার কিছু সময় আগে ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ও উত্তর ছড়িয়ে পড়ে। ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়া যাওয়ায় পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে তা স্থগিত করা হয়।

পরে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন ও উত্তর সরবরাহের চুক্তি করেছিলেন চক্রের সদস্যরা বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় তাঁদের কাছ থেকে ১০০ টাকা মূল্যমানের ১১৬টি স্ট্যাম্প, চাকরিপ্রার্থীদের ১০টি সনদ, ৪০ জনের ব্যাংক চেকের পাতা এবং চেক বই জব্দ করার কথা মামলার সূত্রে জানা গেছে।