বগুড়ার শাজাহানপুরে মোছা. আরমিন খাতুনের রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। বুধবার ২৮ অক্টোবর সকালে বগুড়া শহরের সাতমাথায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা আরমিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
নিহত আরমিনের মা মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস মিনতির অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মেয়ের স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, আরমিন খাতুনের স্থায়ী বাড়ি বগুড়ার ধুনট উপজেলার বেড়েরবাড়ী গ্রামে। তাঁর বাবা মো. আনিছুর রহমান প্রাং। আরমিনের স্বামী মো. শাওনের বয়স ২০ বছর। তাঁর বাড়ি শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া বাজার এলাকার রহিমাবাদ দক্ষিণপাড়ায়। শাওনের বাবা সিরাজুল ইসলাম। শাওন ছাড়াও শারমিন, জেসমিন ও সুলতান নামে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন আরমিনের মা।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গত ২১ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে স্বামীর বাড়িতে আরমিনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ওই দিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের মা মিনতির দাবি, বিভিন্নজনের কাছ থেকে তথ্য জানার পর তাঁর মেয়ের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ হয়। এ বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করে বিচার চাইতে গেলে শাজাহানপুর থানার এসআই সালাম তাঁকে বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করে আপস-মীমাংসার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া তাঁর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত পক্ষের বাড়িতে স্থানীয়ভাবে দরবার চলাকালে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এতে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
মিনতি আরও জানান, ন্যায়বিচারের আশায় তিনি বগুড়ার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাঁর মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আরমিনের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করা জরুরি। কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপ যেন তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।
কর্মসূচি থেকে নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।