আদালতের আদেশে নিজ জিম্মায় মুক্ত, পাঁচবিবিতে শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন পুলিশ কন্যা তামান্না | Daily Chandni Bazar আদালতের আদেশে নিজ জিম্মায় মুক্ত, পাঁচবিবিতে শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন পুলিশ কন্যা তামান্না | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৫০
আদালতের আদেশে নিজ জিম্মায় মুক্ত, পাঁচবিবিতে শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন পুলিশ কন্যা তামান্না
নিজস্ব প্রতিবেদক

আদালতের আদেশে নিজ জিম্মায় মুক্ত, পাঁচবিবিতে শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন পুলিশ কন্যা তামান্না

তাসনিয়া রানা তামান্না। ছবি- ভিডিও হতে নেওয়া।

বগুড়ার আলোচিত ‘ভাইরাল’ পুলিশ কন্যা তাসনিয়া রানা তামান্না আদালতের আদেশে নিজ জিম্মায় মুক্ত হওয়ার পর জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সোনাপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে গেছেন। বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

এর আগে সোমবার আদালত চত্বর থেকে তামান্নাকে উদ্ধার করে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয় বগুড়া সদর থানা-পুলিশ। পরে আদালতের আদেশ অনুযায়ী তাঁকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বগুড়ার আদমদীঘি থানা আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু হেনা সিদ্দিকী তামান্নাকে নিজ জিম্মায় থাকার অনুমতি দেন। আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় তাঁর বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা তাঁকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তামান্নাকে উদ্ধার করে থানায় নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম আলী জানান, আদালত তামান্নাকে নিজ জিম্মায় থাকার আদেশ দিয়েছেন। তিনি নিজের ইচ্ছায় চলে যেতে চাইলে সোমবার রাতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সোনাপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান। শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজন তাঁকে সেখানে নিয়ে গেছেন।

তামান্নার বাবা সাময়িক বরখাস্ত পুলিশ কনস্টেবল মো. রানা মাসুদের অভিযোগ, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে তাঁর মেয়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় ওই দিনই আদমদীঘি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন তিনি। মামলায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সোনাপুর গ্রামের মো. শহিদ হোসেনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

মামলার পরবর্তী পর্যায়ে গত ১ মে তামান্না শহিদ হোসেনের সঙ্গে চলে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর বাবা পুনরায় অপহরণের অভিযোগ করেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশ তামান্নাকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে। এরপর তাঁকে রাজশাহীর একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়।

তবে তামান্না আদালতে জানান, তাঁকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজের ইচ্ছায় গিয়েছিলেন। ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় আদালত তাঁকে নিজ জিম্মায় থাকার অনুমতি দেন।

ওসি মো. ইব্রাহীম আলী জানান, গত ২৬ অক্টোবর তামান্নার ১৮ বছর পূর্ণ হলে তাঁকে রাজশাহীর সেফ হোম থেকে বগুড়ার আদালতে আনা হয়। আদালতের কার্যক্রম চলাকালে তাঁর বাবা-মা তাঁকে নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার আবেদন করেন। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে প্রাপ্তবয়স্ক তামান্নাকে নিজ জিম্মায় থাকার আদেশ দেন।