নওগাঁয় শ্যালিকাকে বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে টিকটকার মাসুদ রানা ও তাঁর স্ত্রী পূর্ণিমাকে নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে বুধবার ২৮ অক্টোবর মাসুদ রানা ফেসবুক লাইভে দাবি করেন, তাঁর স্ত্রী পূর্ণিমা তাঁকে তালাক দিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত একটি কাগজও নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি।
এর আগে ফেসবুক লাইভে অশালীন ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগে মাসুদ রানা ও পূর্ণিমার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একটি দল তাঁদের মুখে কালি মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর নওগাঁ জজ আদালতের আইনজীবী শাহীন কাদির ডলার মাসুদ রানাকে তাঁর সেরেস্তার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে স্থানীয়রা তাঁকে বদলগাছী ছাড়তে তিন ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন বলে জানা যায়।
পরে মাসুদ রানা ভাড়া বাসার আসবাবপত্র ও দুই স্ত্রীকে নিয়ে মহাদেবপুরের মাতাজিহাট এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিতে যান। সেখানে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন তিনি। এ সময় তাঁকে অবরুদ্ধ করে মুখে কালি মাখিয়ে ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে রাইগাঁ পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতায় বিক্ষুব্ধ জনতার কাছ থেকে মুক্ত হয়ে দুই স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে রেখে সেখান থেকে চলে যান মাসুদ রানা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর রাত ১১টার দিকে বদলগাছীতে আবারও তাঁকে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য কান ধরে ক্ষমা চান তিনি এবং এক স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন বলে জানা যায়।
সর্বশেষ বুধবার ফেসবুক লাইভে মাসুদ রানা জানান, পূর্ণিমা তাঁকে তালাক দিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত একটি কাগজও তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন। তবে তালাকের কাগজের সত্যতা, আইনগত কার্যকারিতা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।