বগুড়ায় মোট জিপিএ-৫-এর ৫৭ শতাংশই সরকারি আজিজুল হক কলেজের | Daily Chandni Bazar বগুড়ায় মোট জিপিএ-৫-এর ৫৭ শতাংশই সরকারি আজিজুল হক কলেজের | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ১ নভেম্বর, ২০২৬ ০০:৪৩
বগুড়ায় মোট জিপিএ-৫-এর ৫৭ শতাংশই সরকারি আজিজুল হক কলেজের
নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়ায় মোট জিপিএ-৫-এর ৫৭ শতাংশই সরকারি আজিজুল হক কলেজের

এইচএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ফল বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে বগুড়াতেও। জেলায় এবার মোট ১ হাজার ৩০৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর মধ্যে ৭৪৭টি জিপিএ-৫ এসেছে সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে, যা জেলার মোট জিপিএ-৫-এর প্রায় ৫৭ শতাংশ। সার্বিক ফলাফলে পিছিয়ে পড়ার মধ্যেও কলেজটি জেলার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

বোর্ড সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ৪৭১ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ হাজার ৪৫৫ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯১ শতাংশ।

কলেজের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহফুজুল ইসলাম বলেন, তাঁরা আরও ভালো ফলের আশা করেছিলেন। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অর্জিত ফলে তাঁরা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতে ফলাফল আরও উন্নত করা এবং ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় কলেজ পাসের হার ৯৮ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে ধরে রেখেছে। মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সবাই পাস করেছেন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৬ জন। বিএএফ শাহীন কলেজের ৮০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করলেও কেউ জিপিএ-৫ পাননি।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে ৪২৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৪২০ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৪ জন।

বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে ৬৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬৫৭ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৪ জন।

বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ থেকে ২৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩৬ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১ জন। বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজে পাসের হার ৯২ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১ জন। বগুড়া সরকারি কলেজে পাসের হার ৮৯ দশমিক ৯০ শতাংশ। এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০৭ জন।

অন্যদিকে, জেলার দুটি বড় সরকারি কলেজে তুলনামূলক কম পাসের হার দেখা গেছে। সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজে ১ হাজার ৪৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১ হাজার ১৮৭ জন। পাসের হার ৮১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৬ জন।

সরকারি শাহ সুলতান কলেজে ১ হাজার ৩৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৯৭৮ জন। পাসের হার ৬৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৪ জন।

এ ছাড়া জেলার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—গাবতলী উপজেলার তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ ও বাগবাড়ি মডেল মহিলা কলেজ, ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ এবং কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ ও আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

সার্বিক ফলাফল ও মূল্যায়ন প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, এবার সারা দেশেই পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। তবে এটিকে পরীক্ষার্থীদের সঠিক ও প্রকৃত মূল্যায়ন হিসেবে দেখতে হবে। আগামী দিনের পরীক্ষার্থীদের আরও মনোযোগ দিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া উচিত।