রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মাত্র একজন শিক্ষার্থী। কিন্তু সেই শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। নয়জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও কলেজটির ফলাফলের এমন চিত্রে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি থেকে মানবিক বিভাগে অংশ নেওয়া একমাত্র শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। গত বছরও এ কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করতে পারেনি।
জানা গেছে, কান্দিরহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৬ সালে। প্রতিষ্ঠানটির স্কুল শাখা এমপিওভুক্ত হলেও কলেজ শাখাটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ২০১১ সালে কলেজ শাখার কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে কলেজটিতে নয়জন শিক্ষক রয়েছেন। তবে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মাত্র একজন শিক্ষার্থী।
কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল বারী বলেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও কলেজ শাখাটি এমপিওভুক্ত হয়নি। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতিও রয়েছে। নিজস্ব পাকা একাডেমি দেখানো হলেও বাস্তবে তা নেই বলে দাবি করেন তিনি। পুরোনো অবকাঠামোতেই পাঠদান চলছে।
অধ্যক্ষের ভাষ্য, এমপিওভুক্ত না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে ভালো মানের শিক্ষার্থীরা কলেজটিতে ভর্তি হতে আগ্রহী হয় না। ফলে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর মানবিক বিভাগ থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ওই শিক্ষার্থীও একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে বলে জানান তিনি।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ১১ হাজার ১৭৯ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৩৯৬ জন। পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। বোর্ডের অধীন ৬৬৮টি কলেজের মধ্যে ৪৯টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।