প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:০৮
এবার মাথাগোজার ঠাঁই পেল নিহত পোশাক শ্রমিক তৌফিকের পরিবার
গাইবান্ধা জেলা সংবাদদাতাঃ
এবার মাথাগোজার ঠাঁই পেলেন পোশাক শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধির আন্দোলন চলাকালে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত গার্মেন্টেসকর্মী তৌফিক হোসেনের স্ত্রী সেতুমণি। সেই সাথে পেলেন নগদ দুই লক্ষ টাকা, চাকুরী এবং শিশু সন্তানের ভরণ পোষণের নিশ্চয়তা।
শিশুকালে বাবার মৃত্যুর পর বিভিন্ন ঘাত প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে দিন কেটেছে তৌফিক হোসেনের। দারিদ্রতার কারণে বেশি লেখা-পড়া করতে পারেনি। জীবন এবং জীবীকার তাগিদে কাজের সন্ধানে চলে যান ঢাকায়। এক পর্যায়ে গাজীপুরের লায়লা স্টাইল গার্মেন্টসে পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগ দেন। গত ৬ মাস আগে তাঁর মাথাগোজার ঠাঁই একমাত্র জীর্ণ ঘরটি জায়গা সহ প্রতিবেশি মানিক মিয়ার কাছে বিক্রি করেন ৬০ হাজার টাকায়।
পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনে গত সোমবার দুপুরের খাবার শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে শ্রমিক আন্দোলনের ভিডিও ধারণের অভিযোগে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে একমাত্র শিশুপুত্রকে নিয়ে অসহায় ও হতবিহ্বল হয়ে পড়েন নিহতের স্ত্রী সেতুমণি। এ সময় তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তাঁর কর্মস্থল লায়লা স্টাইল গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার সকালে নিহত পোশাক শ্রমিক তৌফিক হোসেনের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া গ্রামে উপস্থিত হয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন তাঁর কর্মস্থল লায়লা স্টাইল লি: কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা নিহত শ্রমিকের পরিবার ও স্বজনদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।
প্রতিষ্ঠানটির সিএফও মিন্টু সাহা বলেন, আমরা তৌফিক হোসেনকে হারিয়ে অত্যন্ত মর্মাহত। তাঁর স্ত্রী, সন্তান এবং বৃদ্ধা মা সহ পরিবারের সকলে যাতে স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করতে পারে সে বিষয়ে আমরা সর্বাত্নক সহযোগীতা করবো। তাঁর স্ত্রীকে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরী এবং সন্তানের ভরণ পোষণের কোম্পানীর নিজস্ব চাইল্ড হোম কেয়ারে লালণ পালণের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি এসময় কোম্পানীর পক্ষ থেকে নগদ ২ লক্ষ টাকা এবং সদ্য বিক্রি করা তৌফিক হোসেনের বসতবাড়ির জায়গার ৬০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে ক্রেতাকে ফিরিয়ে দেন। সেই সাথে ভবিষ্যতে সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দেন তারা।
প্রতিষ্ঠানটির ডিজিএম মানব সম্পদ মোঃ শামীম ফেরদৌস জানান, বিধিমোতাবেক তৌফিক হোসেনের যাবতীয় পাওয়ানা ১ লক্ষ ৯ হাজার টাকা ইতোমধ্যেই পরিশোধ করা হয়েছে। আজ নগদ ২ লক্ষ টাকা এবং ঘর বাবদ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করা হলো। এছাড়াও বীমা সহ অন্যান্য আরও কিছু পাওনা তাঁর পরিবারের কাছে প্রদান করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে তৌফিকের পরিবার ভালভাবে চলতে পারে সে বিষয়ে সর্বাত্নক সহযোগীতা করা হবে।
নিহত পোশাক শ্রমিক তৌফিক হোসেনের স্ত্রী সেতুমণি তাঁর স্বামীর কর্মস্থল লায়লা
স্টাইল গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষে সহয়তা পেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা উপস্থিত কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।