১৫ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ায় অভিভাবকদের ক্ষোভ | Daily Chandni Bazar ১৫ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ায় অভিভাবকদের ক্ষোভ | Daily Chandni Bazar
logo
প্রকাশিত : ৯ নভেম্বর, ২০২৬ ০০:৩৫
১৫ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ায় অভিভাবকদের ক্ষোভ
নওগাঁ সংবাদদাতাঃ

১৫ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়ায় অভিভাবকদের ক্ষোভ

নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে খোপ খোপ করে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকেরা। তাঁদের অভিযোগ, এর আগেও ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মারধরসহ বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন।

গত শনিবার দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুল কেটে দেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবকেরা ক্ষুব্ধ হন। তাঁরা জানান, এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে চুল কেটে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। তাঁদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক প্রায়ই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন।

মিলন নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘বাড়িতে এসে দেখি, ছেলে ফাহামুদ হোসাইনের মাথার চুল খোপ খোপ করে কেটে দেওয়া হয়েছে। অথচ তার মাথায় স্বাভাবিক চুল ছিল।’

আরেক অভিভাবক রকেট হোসেন বলেন, প্রায় ১৫ জন শিক্ষার্থীর চুল এভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে। এর আগেও এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দিয়েছিলেন প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

তবে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, শিক্ষার্থীদের চুল অনেক বড় হয়ে চোখের ওপর এসে পড়ছিল। এ কারণে কয়েকজনের চুল কেটে দিয়েছেন। নাপিত ডেকে বা অভিভাবকদের সঙ্গে কথা না বলে এভাবে চুল কাটার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দেখতে খারাপ লাগছিল। তাই কপালের ওপরের চুল কেটে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। কী কারণে শিক্ষার্থীদের চুল এভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে, তা তদন্ত করছেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।