প্রকাশিত : ২০ আগস্ট, ২০২২ ১৭:৫৪

ফের জাতিসংঘের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারেন তালেবানের ১৩ কর্মকর্তা

অনলাইন ডেস্ক
ফের জাতিসংঘের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারেন তালেবানের ১৩ কর্মকর্তা

আফগানিস্তানে তালেবানের ১৩ কর্মকর্তার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল জাতিসংঘ। কিন্তু তাদের ওপর পর থেকে এই সুবিধা তুলে নেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২০১১ সালের একটি প্রস্তাবনার অধীনে ১৩৫ তালেবান কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর আওতায় তাদের সম্পদ জব্দ এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আনা হয়।

কিন্তু কয়েক মাস আগেই তালেবানের ১৩ কর্মকর্তার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এবং অন্যান্য দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ করার অনুমতি দেওয়া হয়। গত জুনে ১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আফগানিস্তান নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক কমিটি ওই তালিকা থেকে তালেবানের দুই শিক্ষামন্ত্রীর নাম বাদ দেয়। তালেবান সরকার নারাী অধিকারে কাটছাঁট করায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত বছর তালেবান দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে নারীদের অনেক কাজ থেকে, এমনকি পুরুষ সঙ্গী ছাড়া ভ্রমণ করা এবং তাদের খেয়াল খুশি মতো পোশাক পরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

এদিকে নতুন প্রস্তাবনার কারণে মাত্র ছয়জন তালেবান কর্মকর্তা কূটনৈতিক কারণে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পাচ্ছেন। এদিকে শুক্রবার রাত থেকেই ১৩ আফগান কর্মকর্তা পুণরায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় পড়তে যাচ্ছেন। এই তালিকায় তালেবান সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল ঘানি বারাদার এবং উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাইয়ের নামও আছে।

আফগানিস্তানের মূল সমস্যা এখন অর্থনৈতিক সংকট। পশ্চিমারা আফগানিস্তানকে বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং বৈদেশিক রিজার্ভ ফ্রিজিং করার ফলে দেশটির অর্থনীতির কাঠামো ভেঙে পড়ে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে জিডিপি এক বছরের আগের একই সময়ের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ কমে যায়।

দেশের অধিকাংশ মানুষ নিঃস্ব ও ক্ষুধা মন্দার মধ্যে পড়েছে। এক বছরের আগের তুলনায় সে বছর জুনে খাদ্য ও জ্বালানির দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। ২০টি পরিবারের মধ্যে একটি মাত্র পরিবারে পর্যাপ্ত খাবার ছিল।

দেশটির নারীরা নিঃসন্দেহে সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছে। দুই দশক ধরে আমেরিকা- সমর্থিত সরকারের অধীনে নারীরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার সুযোগ পেয়েছিল। নারী শিক্ষার হার ২০০০ সাল থেকে ২০১৮-এর মধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। যদিও দেশটিতে নারী শিক্ষার হার মাত্র ৩০ শতাংশ।

মাঝের কিছু সময় নারীরা চিকিৎসক, সাংবাদিক ও আইনজীবী হওয়ার সুযোগও পেয়েছেন। এখন তারা আবারো বিতাড়িত হচ্ছেন। গত মার্চ মাসে তালেবান মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে যায়। এসব কারণে তালেবান কর্মকর্তাদের ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা আনা হচ্ছে।

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন

উপরে