কাবুল–কান্দাহারে বিস্ফোরণ, সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলার দাবি পাকিস্তান–তালেবানের
আফগানিস্তান-এর রাজধানী কাবুলসহ কান্দাহার ও পাকতিয়া শহরে হামলার কথা জানিয়েছে কাবুল। এর কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তান সীমান্তে সংঘর্ষে তাদের দুই সেনা নিহত হওয়ার তথ্য দেয়।
বিবিসি জানিয়েছে, ভোরের দিকে কাবুলে জোরালো বিস্ফোরণে শহর কেঁপে ওঠে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৫০ মিনিট নাগাদ শহরজুড়ে জেট বিমানের শব্দসহ বিস্ফোরণ শোনা যায়। রাত প্রায় সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় গুলির শব্দ পাওয়া গেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, তার দেশের বাহিনী ‘যেকোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নস্যাৎ করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।’ এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, দেশের প্রতিরক্ষায় কোনো আপস করা হবে না এবং প্রতিটি আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদির দাবি, তাদের হামলায় আফগান তালেবানের ২৭টি সামরিক পোস্ট ধ্বংস এবং আরও নয়টি দখল করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮০টির বেশি ট্যাংক, আর্টিলারি ও সাঁজোয়া যান ধ্বংসের কথাও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে তালেবান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ১৯টি পাকিস্তানি সামরিক পোস্ট ও দুটি ঘাঁটি দখল করেছে এবং ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সহিংসতায় উভয় পক্ষের ভারী ক্ষয়ক্ষতির দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা এম আসিফ কঠোর ভাষায় এক্স পোস্টে আফগান তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’ ঘোষণার কথা বলেন। তিনি লেখেন, কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও এখন ‘ধৈর্যের বাধ ভেঙে পড়েছে।’
এর আগে গত অক্টোবরে প্রাণক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই পক্ষ একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, যদিও সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। গত সপ্তাহে আফগানিস্তানে একাধিক রাতে বিমান হামলা চালানোর কথা স্বীকার করে পাকিস্তান। তালেবানের দাবি, এসব হামলায় নারী-শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছে।
কাবুলের অভিযোগ, বেসামরিক বাড়ি ও একটি ধর্মীয় বিদ্যালয়কে নিশানা করা হয়েছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, সাম্প্রতিক পাকিস্তানি হামলায় ‘কেউ আহত হয়নি’।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি তার দেশের সশস্ত্র বাহিনীর ‘দৃঢ় ও সর্বাঙ্গীন’ প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করেছেন।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৫৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাহাড়ি সীমান্ত রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম কারণ।
