প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ ১৬:৩২

প্রতারণার পর নিজেকে পরিচয় দিতেন সেনাকর্মকর্তা, আইজিপির স্ত্রীর ভাই

অনলাইন ডেস্ক
প্রতারণার পর নিজেকে পরিচয় দিতেন সেনাকর্মকর্তা, আইজিপির স্ত্রীর ভাই

সালাউদ্দিন ভূইয়া ছিলেন মাছ ব্যবসায়ী, তবে নিজেকে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সিইও, ম্যানেজার, মার্চেন্ডাইজার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন গার্মেন্টস এক্সেসরিজের ক্রয়পত্র বিতরণ করে থাকে। ক্রয়াদেশ অনুযায়ী কোম্পানীগুলো এক্সেসরিজ ডেলিভারি দেয়ার পর তাদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে সে এক্সেসরিজগুলো অন্য কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিত। এরপর ভুক্তভোগীরা টাকা চাইতে গেলে সে নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, আইজিপির স্ত্রীর বড় ভাই সাংসদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিতো। এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেছে সালাউদ্দিন ভূইয়া।

এমন সব প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর মহাখালী এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে প্রতারক ও অর্থ আত্মসাৎকারী সালাউদ্দিন ভূইয়াকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তার অভিযানের সময় তার কাছ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরিহিত বাঁধাইকরা ১ টি ফটোফ্রেম, সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত ১টি করে গেঞ্জি, ক্যাপ, মানিব্যাগ ও মেডেল, ৪ টি জাল লেটার প্যাড, ১ টি জাল সীল, ২টি জাল ক্রয়াদেশ, ২ টি জাল সোয়াচ প্যাড, ২টি চেক বই, ৩ টি মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন কন্টেন্ট এবং নগদ ৯ হাজার ৮৩০ উদ্ধার করা হয়।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। এসময় তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সালাউদ্দিন বিভিন্ন প্রতারণার বিষয়ে স্বীকারোক্তি প্রদান করে।

গ্রেপ্তার সালাউদ্দিন ভুইয়াকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খন্দকার আল মঈন জানায়, সে নিজেকে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সিইও, মার্কেটিং ম্যানেজার, মার্চেন্ডাইজার ইত্যাদি পরিচয় প্রদান করে বিভিন্ন গার্মেন্টস এক্সেসরিজ-এর ক্রয়পত্র বিতরণ করে থাকে। ক্রয়াদেশ অনুযায়ী কোম্পানীগুলো এক্সেসরিজ ডেলিভারি দেয়ার পর তাদের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে সে উক্ত এক্সেসরিজগুলো অন্য কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিত।

এছাড়াও সে নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, আইজিপি’র আত্মীয়, সাংসদের আত্মীয় ইত্যাদি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে আসছিল বলে স্বীকার করে।

র‍্যাব মুখপাত্র বলেন, গ্রেপ্তার সালাউদ্দিন ভূইয়া গত প্রায় ৫ বছর ধরে সে বিভিন্ন প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে প্রতারণা করে আসছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা যায় যে, সে কোটি টাকার অধিক আত্মসাৎ করেছে। বর্তমানে সে মহাখালীর একটি অফিসে সাবলেট ভাড়া নিয়ে বিগত ৩ মাস যাবত এহেন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

গ্রেপ্তার সালাহউদ্দিন আরও জানায় যে, সে কোন ঠিকানায় ৬ মাসের বেশি অবস্থান করে না। এছাড়া ফটোশপ এর মাধ্যমে বিভিন্ন ছবি এডিট করে মূলত প্রতারণার কাজে ব্যবহার করে থাকে। এর আগে তার নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগে আদালতে প্রতারণার মামলা ও বিভিন্ন থানায় ৩ টি অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের মামলা প্রক্রিয়াধীন।

দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন

উপরে