৭৭ কোটি টাকা ফেরতে ই-অরেঞ্জের ৫০০ গ্রাহকের রিটের আদেশ বুধবার
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের কাছে আটকে থাকা ৭৭ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে পাঁচ শতাধিক গ্রাহকের করা রিটের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য বুধবার (৬ এপ্রিল) দিন ধার্য করেছেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্যারিস্টার এম আব্দুল কাইয়ুম।
রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।
মঙ্গলবার আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো.আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন। তাদের সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার এম. আব্দুল কাইয়ুম।
এ বিষয়ে এম আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ২০০৭ সালে যাত্রা শুরু করা অনলাইন শপ ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে গত বছরের মাঝামাঝি থেকে গ্রাহকদের টাকা নিয়ে সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করার অভিযোগ ওঠে।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার মাত্র দু-এক বছরের মধ্যে গ্রাহক আকর্ষণে বিভিন্ন অনৈতিক অফার, ডিসকাউন্টের নামে তাদের কাছ থেকে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ই-অরেঞ্জ। বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, কোম্পানিটি বিপুল অর্থ এরই মধ্যে বিদেশে পাচারও করেছে।
‘গ্রাহকেরা অনেক চেষ্টা করেও পাওনা টাকা ফেরত না পেয়ে আইনের দ্বারস্থ হন। এ অবস্থায় ই-অরেঞ্জের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে তদন্তসহ গ্রাহকের স্বার্থরক্ষায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এ রিটটি করা হয়েছে।’
এর আগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের কাছে গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন প্রতারণার শিকার পাঁচ শতাধিক গ্রাহক।
ই-অরেঞ্জের অর্থের উৎস অনুসন্ধানসহ রিটে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গ্রাহকদের পক্ষে ব্যারিস্টার এম. আব্দুল কাইয়ুম এ রিট আবেদন করেন।
রিটে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি ই-ওয়ালেট, গিফট কার্ডসহ অন্যান্য অননুমোদিত পদ্ধতিতে লেনদেন করে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে গ্রাহকদের সর্বস্বান্ত করেছে। সরকারি দপ্তরগুলোর নাকের ডগায় থেকে প্রতিনিয়ত দেশের প্রচলিত আইন ভঙ্গ করেছে কোম্পানিটি। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
রিটে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), বাংলাদেশ ব্যাংক, ই-অরেঞ্জের সোহেল রানা, সোনিয়া মেহজাবিন ও বীথি আক্তারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।
রিট আবেদনে গ্রাহকদের পক্ষে প্রতিনিধি ছিলেন- মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন, আরাফাত আলী, তারেকুল আলম, শাকিবুল আলাম সোহাগ, রানা খান ও হাবিবুল্লাহ জাহিদ।
এদিকে অর্ডারের টাকা নিয়ে সময়মতো পণ্য সরবরাহ না করে গ্রাহকদের ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
দৈনিক চাঁদনী বাজার / সাজ্জাদ হোসাইন
