প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৪৪

৫-৭ দিনের মধ্যে গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

চাঁদনী ডিজিটাল ডেস্ক রিপোর্টঃ
৫-৭ দিনের মধ্যে গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ঢাকা-১৭ আসনের বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও মন্দিরে আর্থিক অনুদান দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে আমদানি করা গ্যাস সংরক্ষণের জন্য সাগরে দুটি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এর সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। ফলে অন্য জাহাজটির ওপর চাপ বেড়েছে এবং পাইপলাইনে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখন আমরা চেষ্টা করছি গ্যাস আনার জন্য। আলহামদুলিল্লাহ গত সপ্তাহ থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। হয়তো আরও ৫-৭ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে ইনশা আল্লাহ।’

তেলের মতো গ্যাসের ক্ষেত্রেও একটি অসাধু চক্র তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, কেউ কেউ মেশিন দিয়ে জোর করে পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস নিয়ে যাচ্ছেন। এতে ওই ব্যক্তি লাভবান হলেও অন্য অনেক মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।

অবৈধভাবে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেল নেওয়া বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার একা এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতে পারবে না। কেউ অবৈধভাবে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেল নিলে সবাইকে তা প্রতিরোধ করতে হবে।

‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি মানুষ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ ভোট দিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। এটি অত্যন্ত কঠিন দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিগত এক যুগেরও বেশি সময় দেশে স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিস্ট শাসন ছিল। সে সময় মানুষের ভোট ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং রাষ্ট্রের সম্পদ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচারের কথা শ্বেতপত্রে

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রকাশিত শ্বেতপত্রের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, সেখানে বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচারের কথা বলা হয়েছে। এই অর্থ ও সম্পদ দেশের মানুষের বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকার গঠনের পর এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের দুটি প্রধান লক্ষ্য—মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তৃণমূল ও সাধারণ মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা।

‘৪১ লাখ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছাতে পারব’

দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ঢাকা-১৭ আসনে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নভেম্বর বা ডিসেম্বর থেকে ৪১ লাখ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছাতে পারবো। আমাদের একটি শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী জাতি চাই। এভাবে দেশ আস্তে আস্তে স্বাবলম্বী হবে।’

‘ধর্মীয় কারণে কোনো ভেদাভেদ নেই’

ধর্মের কারণে সরকারের কাছে কোনো ভেদাভেদ নেই উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই কাজও শুরু করা হয়েছে।

কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব জ্বালানি খাতে

চলমান বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সমস্যা শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এর প্রভাব বিভিন্ন দেশের জ্বালানি খাতে পড়েছে এবং বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।

তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জ্বালানির দাম না বাড়িয়ে কীভাবে জনগণকে স্বস্তি দেওয়া যায়, সে চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কিছু অসাধু মানুষের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে পরে তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হতে হয়েছে।

‘বাপেক্সকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল’

দেশীয় গ্যাস উত্তোলনের পরিবর্তে বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মাটিতে গ্যাসের মজুত থাকতে পারে, তবে এর প্রকৃত অবস্থা এখনো জানা যায়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে দেশীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে কার্যত পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল এবং জ্বালানি খাতকে বিদেশিনির্ভর করে তোলা হয়েছিল।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাপেক্সকে সক্রিয় করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গ্যাস অনুসন্ধান ব্যয়বহুল হলেও সরকার ১৩০টি গ্যাসকূপ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব কূপে গ্যাস পাওয়া গেলে দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উপরে